কামাল উদ্দিন সুমন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দিনের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ঐদিন দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সময়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত দুই হাজার নেতা।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২/৪ জন ছাড়া শীর্ষ নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বিদেশ পালানো কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের দুই-তৃতীয়াংশের অবস্থান ভারতে। সাবেক কিছু মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, ইটালি, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদেশ পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের শনির দৃষ্টি রয়েছে দেশের দিকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকে তাদের অশুভ তৎপরতরা বেড়ে চলেছে। পলাতক নেতারা হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, গুগল মিটের মাধ্যমে করা বিভিন্ন অনলাইনের বৈঠকে সংঘবদ্ধ হয়ে দেশে থাকা তাদের নেতাকর্মীদের দিয়ে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। এজন্য দেশে থাকা পলাতক নেতাকর্মীদের অর্থের বিনিময়ে সক্রিয় করছে তারা।

শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে একটি সুরক্ষিত বাড়িতে রয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মুঠোফোনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন। ভারতের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ব্যাপারে ‘ওয়াকিবহাল’ থাকলেও কোনো অপরাধ না করলে তাদের ‘হয়রানি’ করা হয় না সে ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আমেরিকায় চলে যাওয়া সম্পাদকম-লীর এক নেতা তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, অনলাইনে সময় কাটে বেশিরভাগ নেতার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, এমনকি টিকটকও দেখেন। বিশ্বস্ত বন্ধু ও আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া-আসা করেন তিনি। ছবি আতঙ্কে বাইরে আড্ডা কমই হচ্ছে বলে জানান এ নেতা। মাঝেমাঝে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গেও কথা বলে সময় কাটে তার। অবশ্য অনেকের মোবাইল নম্বর না থাকায় সেসব কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

জানা গেছে, শেখ হাসিনার পতনের পরপরই আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী গণপিটুনি, প্রতিশোধ ও ক্রমবর্ধমান মামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ভারত তাদের দলীয় কর্মকা- টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত বছরের মে মাসে জনমতের চাপে আন্তঃবর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় এবং দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা, দুর্নীতিসহ নানান অপরাধে তদন্ত ও বিচার শুরু করে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়।

গত বছরের শেষদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দ- দেয়। তবে এ রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে ভারত থেকেই নিজের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসিনা। এর মধ্যে রয়েছে আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করতে হাজারো সমর্থককে সংগঠিত করার চেষ্টা।

দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির গোপন ও সুরক্ষিত আশ্রয়ে বসে হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও মিটিং ও কল করছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তার সব রাজনৈতিক কর্মকা- চলছে ভারতের বিজেপি সরকারের নজরদারির মধ্যেই, যারা ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। এরই মধ্যে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ ভারত উপেক্ষা করেছে।

কলকাতা থাকা একজন নেতা বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বাংলাদেশে থাকা নেতাকর্মী, তৃণমূল, পেশাজীবী সবাইকে নিয়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগে রাখছেন। সামনে যে সংগ্রাম আসছে, তার জন্য দলকে প্রস্তুত করছেন। নেত্রী কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টা মিটিং করেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষির্কীকে ঘিরে বিদেশে পলাতক নেতাদের ইন্ধনে ও আর্থিক সহযোগিতা দেশে অস্থিরতা করার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে তারা। পুলিশ ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার সচিবালয়ে বলেছেন, ২৩ জুন (সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে) রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। ওই দিনটিকে কেন্দ্র করে তারা দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে বলে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ সর্বদা তৎপর এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্রে করে পলাতক নেতাদের নির্দেশনায় ও আর্থিক সহায়তা দেশে তাদের দলীয় কার্যক্রমের উপস্থিতি জানান দিতে চাচ্ছে। সম্প্রতি হাাসিনার সরকারের অন্যতম অপরাধের যোগানদাতা সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ দুবাইতে গ্রেফতার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নেতারা অনেকটা সর্তকর্তা অবলম্বন করছেন। তবে ভারতে থাকা নেতারা আগের চাইতে ফুরফুরে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৃণমূলের কর্মীরা দুর্বিষহ জীবন পার করলেও দলটির সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা বিদেশে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সাবেকমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা কলকাতার সল্টলেক, রাজারহাট নিউটাউন, বারাসাত, তপসিয়া, বর্ধমান, বালিগঞ্জ, যাদবপুর, দমদম, গড়িয়াহাট, বশিরহাট, বেহালা, ভবানীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকেন। আবার অনেকে মারকুইস স্ট্রিট ও পার্ক স্ট্রিটের বিভিন্ন হোটেলেও কম খরচে থাকছেন।

ভারতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ের একজন নেতা জানান, গত আগস্টে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের দলীয় কাঠামো একেবারেই ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। পলাতকদের একটা বড় অংশের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। সম্প্রতি বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাদের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করেছে দলটি। তালিকা অনুযায়ী, সরকার পতনের পর প্রায় দুই হাজার দলীয় পদধারী নেতা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত, নেপাল, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার তিন শতাধিক নেতা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের বড় অংশই অবস্থান করছেন পশ্চিমবঙ্গে।

পালিয়ে থাকা একাধিক নেতার সাথে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কলকাতার অভিজাত এলাকা রাজারহাট নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে সস্ত্রীক থাকছেন। তিনি ডিএলএফ নিউটাউন হাইটস প্লাজায় আছেন।

কলকাতার নিউটাউন আবাসিক এলাকার অভিজাত কমপ্লেক্স ‘রোজডেল গার্ডেন-এর ৩ নম্বর অ্যাকশন এরিয়ার ২ নম্বর টাওয়ারের ১১ তলার ১১-সি ফ্ল্যাটে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে থাকেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক পূর্ব কলকাতার সল্টলেকের একটি অত্যাধুনিক কমপ্লেক্সের ফ্ল্যাটে স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম স্ত্রীকে নিয়ে থাকছেন কলকাতার আরেক আবাসিক এলাকা তপসিয়ায়।

নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান দুবাই আছেন এমনটা সবাই জানলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে তিনি আছেন ইতালিতে। সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলাশী জীবন যাপন করছেন। মাঝেমধ্যে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ঘুরছেন পরিবার নিয়ে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক কলকাতা ও দিল্লিতে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন না তিনি।

ভারতে নিজের বাড়িতে থাকছেন আওয়ামী লীগের নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার ছেলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অন্যদিকে সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ও তার ভাই যুবলীগের নেতা নিক্সন চৌধুরী থাকছেন কলকাতায়। তবে নিক্সন চৌধুরী কলকাতা থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আসা যাওয়া করেন।

সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারা, সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ, রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক আলোচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান (নিখিল), কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহারসহ অনেক নেতা কলকাতায় অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেকমন্ত্রী মির্জা আজম, দলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ সপরিবারে কলকাতায় আছেন।

কলকাতার নিউটাউন হাইটস প্লাজায় ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী. টাঙ্গাইল-২ আসনের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির। ফেনী-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম স্ত্রী, ভাইবোন ও পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে নিয়ে নিউটাউনের অভিজাত এলাকা টাটা হাউজিং অ্যাভিনিউতে থাকেন।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলাল উদ্দিন ও তার ছেলে শেখ তন্ময়, নসরুল হামিদ (বিপু), অসীম কুমার উকিল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক অপু উকিল, যশোরের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ অনেকেই কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল) কলকাতায় ভাড়া বাসায় থাকছেন। তার ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত স্ত্রী ও দুই মেয়ে লন্ডনে থাকেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটও কলকাতায় আছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক হুইপ আতিকুর রহমান আতিক, কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সাবেক বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সিরাজগঞ্জের সাবেক আলোচিত সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, মাহমুদ হাসান রিপন ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানসহ অনেকেই কলকাতায় আছেন।

৫ আগস্টের পর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বেলজিয়ামে যান। হাছান মাহমুদ বেলজিয়ামের নাগরিক। তবে তার ছেলে লন্ডনে পড়ালেখা করেন। হাসান মাহমুদ এখন সেখানেই অবস্থান করছেন। লন্ডনে থাকেন আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

ইস্ট লন্ডনের নিউবেরি পার্ক এলাকায় দুই মেয়ের বাসায় থাকছেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রহমান। সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমও লন্ডনে থাকছেন। সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী তার লন্ডনের বাসায় আছেন। সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাজ্যের অ্যাসেক্সের রমফোর্ড এলাকায় বসবাস করছেন।

৩ আগস্ট দেশ ছাড়েন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তার বড় ছেলে লন্ডনে ও ছোট ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা করেন। তাপস বর্তমানে সপরিবারে সেখানেই থাকছেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীরও বর্তমান ঠিকানা যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডন।

কানাডায় স্ত্রী নাহিদ সুলতানা যুঁথিকে নিয়ে থাকেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। কানাডার সমুদ্রসৈকত ও রেস্টুরেন্টে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দেওয়ার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আছেন সাবেক উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক হুইপ সানজিদা খানম ও আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের শ্বশুর ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুবাইয়ে তার ছেলে খন্দকার মাশরুর হোসেনের কাছে থাকছেন। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আছেন বলে জানিয়েছেন তার পক্ষে রাজনীতি করা চট্টগ্রামের সাবেক এক ছাত্রনেতা।