২০২৪ ইং সালের লড়াইয়ের সুফল পেতে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বগুলো আগে মেটানোর দরকার বলে মনে করেন ঢাকা পলিটেকনিকের আর্কিটেকচার বিভাগের ছাত্র জুলাই যোদ্ধা নিয়ামুল হক নাবিল। তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী হলেও আন্দোলন করেছেন লক্ষীপুর শহরে। তিনি জুলাইয়ের মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক সংগ্রামের সাথে। তিনি বলেছেন, ৪ আগস্ট আমরা সবাই মিলে লক্ষীপুর শহরে আন্দোলনে নামী। দুপুর গড়িয়ে যখন বিকাল তখন শহরের বাড়ির ছাদ থেকে সন্ত্রাসী টিপু বাহিনী আক্রমণ করছিল আমাদের ওপর। গুলী করছিল তারা। বিকালের দিকে আমার দুই পা গুলীবিদ্ধ হয় পুলিশ এবং সন্ত্রাসী টিপুদের বন্দুকের গুলীতে।

দুই পায়ে গুলী লাগার পর আমি রাস্তায় পড়ে যাই। তখন আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার এক পর্যায়ে জানানো হয় জেলাতে এর চিকিৎসা সম্ভব না। আরও উন্নত মানের চিকিৎসা লাগবে। ঢাকায় যেতে হবে। এরপর ঢাকার সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করি। সেখানে ৮ মাসের মতো চিকিৎসা গ্রহণ করি। এখনো থেরাপি দিতে হয় পিজি হাসপাতালে।

জুলাইয়ের মূল্যায়ন নিয়ে নাবিল বলেন, জুলাই নিয়ে অনেকের অনেক রকম আকাক্সক্ষা ছিল। শিক্ষার্থী হিসেবে আমার এক রকম ছিল। অন্যান্য পেশার মানুষেরও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন ছিল। সবার অনেক স্বপ্নের মধ্যে একটি বিষয় ছিল তা হলো জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের পতনের পর নতুনভাবে একটি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলাম সকলে। এখন দেখছি স্বপ্নটা আস্তে আস্তে কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সবার মধ্যে এক ধরণের হীনমন্যতাও তৈরি হয়েছে। এটাও লক্ষ্য করছি বেশ কিছু দিন থেকেই। এখন মনে হচ্ছে, সবার মনে যে পরিবর্তনের আশা ছিল তা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার; সেটি আর হচ্ছে না।

আগামীর বাংলাদেশটা কেমন দেখতে চান, অর্থাৎ ২০২৭ইং সালে বাংলাদেশটাকে কেমন দেখতে চান ? এমন প্রশ্নে নাবিলের কথা হলো- আমি সব সময় বৈষম্যহীন একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই। বাংলাদেশে এক নম্বর সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমার কাছে মনে হয় অভূত্থানের আগে যেমন দুর্নীতি ছিল এখনো তা-ই আছে। এর কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। স্বাস্থ্যখাতে সমস্যা রয়ে গেছে। শিক্ষাখাতে সংস্কার দরকার। সবক্ষেত্রে জবাবদিহীতার মধ্যে আনা দরকার।

জুলাই থেকে আসলে কি শিক্ষা নেওয়া দরকার ? এমন প্রশ্নের জবাবে কিশোর নাবিল আরও বলেন, এমনভাবে চলতে থাকলে আর কোন মা তার সন্তানকে আন্দোলনে পাঠাবে না। যেমনটা ২০২৪ইং সালে জুলাই মাসে হয়েছে। মানুষ আসলে শিক্ষা নেয় না একারণে যে সাধারণ মানুষ সব সময় ভূক্তভোগী হয়। আন্দোলনে তারা অংশ নেয়। আর সুবিধাভোগী হয় আরেকজন। উচ্চ শ্রেণি রাষ্ট্রের সুবিধাগুলো ভোগ করে। তখন তারা আর আন্দোলনকারীদের মনে রাখে না। সাধারণ মানুষকে ভুলে যায়। শহীদ এবং আহতদের ভুলে যায়। তাদের আর মূল্যায়ন হয় না। বিচারও হয় না। তারা সামাজিকভাবে নিচু হয়ে থাকে।

নাবিল জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন লক্ষীপুর সদরে। দুই পায়ে গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর তার পড়াশোনায় বিরতি রাখতে হয় চিকিৎসার জন্য। পরবর্তীতে আবার পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। বর্তমান ঢাকা পলিটেকনিকে আর্কিটেকচারে ডিপ্লোমাতে ফাইনাল ইয়ারে পড়াশোনা করছেন।

এবারের জুলাই ব্যর্থ হলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ আর কখনোই গড়ে তোলা সম্ভব হব্ েনা বলে হতাশা ব্যক্ত করেন নাবিল। কেউ স্বপ্ন দেখবে না যে বাংলদেশ বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র হতে পারে। জুলাইয়ের চেতনার বাংলদেশ গড়তে রাজনৈতিকদলগুলোর ব্যাপক ভূমিকা রাখা উচিত। যাবতীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসন করা উচিত। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসন না হলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ কখনোই গড়ে তোলা সম্ভব না।