স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর অংশ হিসেবে দেশের ১২ হাজার কলেজ শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ২৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ বর্তমান সরকারের যুব উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি বিস্তার এবং উচ্চশিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভিসি জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক পর্যায়ে আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করেছে। সরকারের এটুআই প্রকল্প ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রণীত এই পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ শিক্ষক তৈরির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ১২ হাজার কলেজ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে আইসিটি ট্রেইনার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৮৯ জন কোর ট্রেইনার এবং ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ৭ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টি ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউট এবং ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ফ্রিল্যান্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ বর্তমানে ১০ শতাংশ হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাল্টি ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ পাবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি কলেজে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে ইতোমধ্যে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ভিসি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম এবং রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন উপস্থিত ছিলেন।