কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিজিবির আহ্বানে অবশেষে পতাকা বৈঠকে বসেছে বিএসএফ।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবারের পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা এবং প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান অংশ নেন। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানীনগর বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার সুনীল কুমার যাদব। বৈঠকে পুশইনের ঘটনা ছাড়াও সীমান্ত পরিস্থিতি ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশ-ইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে কাঁটাতারের ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত নারী-শিশুসহ ১২ জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। জবাবে বিএসএফ জানায়, সীমান্তে অবস্থানরত ওই ১২ জনের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকায়ই অবস্থান করতে হবে বলে জানানো হয়।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারটি শিশু রয়েছে। বর্তমানে ওই ১২ জন ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি একটি মাঠের খেতের মধ্যে অবস্থান করছেন। বিজিবি জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও সহযোগিতা করছেন।

কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‌‌‘কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, পুশ-ইনের চেষ্টাকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বিজিবি কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না।’

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতেও সীমান্তের দুটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে আবার পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে আমাদের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি।