২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে মূলত তামাকজাত পণ্য, অ্যালকোহল, বিলাসবহুল আমদানিকৃত সামগ্রী এবং নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই বাজেট প্রস্তাবনায় বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিচে প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী যেসব খাতের পণ্যের দাম বাড়তে পারে, তার একটি তালিকা দেওয়া হলো:
১. তামাক ও মাদকজাত পণ্যসিগারেট ও ফিল্টার:
সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালে ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। উচ্চ ও অতি-উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।নিকোটিন পাউচ: ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে এর ওপর মোট ৬২ শতাংশ ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বসানো হচ্ছে।মদ ও বিয়ার: দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহল বা মদ-বিয়ারের ওপর প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের কারণে এর দাম বাড়বে।
২. আমদানিকৃত ও বিলাসী খাদ্যসামগ্রীকাজুবাদাম:
কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্কের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব এসেছে।আমদানিকৃত মাছ: তাজা, ঠান্ডা ও হিমায়িত মাছ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় বিদেশি মাছের দাম বাড়তে পারে।প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার: বিদেশি চকোলেট, ওয়েফার, পটেটো চিপস, প্রিমিয়াম বিস্কুট এবং প্রক্রিয়াজাত জুসের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কারণে এগুলো আরও ব্যয়বহুল হবে।
৩. প্রসাধনী ও গৃহনির্মাণ সামগ্রীবিদেশি প্রসাধনী:
দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত প্রিমিয়াম স্কিনকেয়ার, মেকআপ পণ্য ও সুগন্ধির ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এমএস রড ও ইস্পাত: রড তৈরির প্রধান কাঁচামাল স্ক্র্যাপ শিটের ওপর সুনির্দিষ্ট কর টনপ্রতি ৩০০ টাকা এবং এমএস পণ্যের কর টনপ্রতি ৪০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে, যা রডের দাম বাড়িয়ে দেবে।
৪. সেবা খাতহেলিকপ্টার ও বাস ভাড়া: হেলিকপ্টারের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নে ১০ লাখ টাকা উৎসে কর আরোপের কারণে হেলিকপ্টার ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। বাসের অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের কারণে বাস ভাড়াও বাড়তে পারে।
বাজেটের এই প্রস্তাবনাগুলো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে উল্লিখিত পণ্য ও সেবার নতুন দাম কার্যকর হবে।