ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গতকাল সোমবার (৮ জুন) থেকে শুরু হওয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সম্মেলন চলছে। আজ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন। সীমান্ত পরিস্থিতির উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অবৈধ পুশইন, সীমান্ত হত্যা এবং বিভিন্ন সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে পৌঁছেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। দিল্লি বিমানবন্দরে বিজিবি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার এবং বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটি প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। ফলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আলোচনায় থাকছে যেসব বিষয়
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পুশইন প্রতিরোধ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া তিন বিঘা করিডোর দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন, আগরতলা-আখাউড়া এলাকার খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে তথ্য বিনিময়ের বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন বা হেলিকপ্টার চলাচল বন্ধ এবং বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার রোধে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামাজিক যোগাযোগ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাস্তবতায় দিল্লির এই বৈঠককে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।