বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় নারী ও শিশুসহ আটকে পড়া নারী ও শিশুসহ ২১ জন ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফেরত নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম)।

উল্লেখ্য, শূন্যরেখায় নারী ও শিশুসহ আটকে পড়া মানুষদের জীবন ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম গত ৭ জুন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাবে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক ভারত কর্তৃক আটকে পড়া ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

UN-letter

আজ বুধবার (১০ জুন) তারিখে ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াকের পাঠানো ওই জবাবি পত্রের অনুলিপি আইওএম বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান ক্যাথরিন নর্থিংকেও দেওয়া হয়েছে।

জবাবি পত্রে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে আটকে পড়া নারী ও শিশুসহ ২১ জন ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফেরত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এটি একটি স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি।

পত্রে জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে যে, তারা সীমান্তের ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিশেষত নারী, শিশু ও অন্যান্য বিপন্ন জনগোষ্ঠীর মানবিক ও সুরক্ষাগত পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অভিবাসীদের আইনি পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অগ্রাধিকার বলে জাতিসংঘ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতিসংঘ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন-সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তির (জিসিএম) স্বাক্ষরকারী হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই অভিবাসন-ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিপন্ন অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রয়োজনে সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে আইওএম-এর মাধ্যমে সমন্বয়, তথ্য বিনিময়, পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা দিতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, “জাতিসংঘের দ্রুত ও নীতিনিষ্ঠ সাড়া এবং আটকে পড়া মানুষগুলোকে ফেরত নেওয়ার খবরকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি প্রমাণ করে, মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সার্থক। তবে এ স্বস্তি যেন আমাদের আত্মতুষ্ট না করে — অবৈধ পুশইন সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য, এবং সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কারও বৈধতা যাচাইয়ের প্রশ্ন থাকলে তা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া মেনেই নিষ্পত্তি হতে হবে, পুশইনের মাধ্যমে নয়।” তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে সীমান্তে ভুক্তভোগী মানুষের পাশে থাকা এবং প্রতিটি উপযুক্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা অব্যাহত থাকবে। মানুষের জীবন ও মর্যাদার চেয়ে বড় কিছু নয়।