মাসের পর মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ফ্রান্সে চলমান জি৭ সম্মেলন চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিতে সই করেন এবং পরবর্তীতে ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে সম্মতি ও অনুমোদন জানান। বিবিসি’র বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই যুদ্ধবিরতির খবর নিশ্চিত করেছে।

এই প্রাথমিক চুক্তির আওতায় অবিলম্বে দুই দেশের মধ্যকার সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি বর্ধনশীল সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করার বিষয়টি এই চুক্তির অন্যতম বড় অগ্রগতি।

চুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "আমি কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেত"। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শান্তির বার্তা আসার সাথে সাথেই বৈশ্বিক শেয়ার বাজার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তাঁদের অবিশ্বাসের জায়গা এখনো রয়ে গেছে। শত্রু পক্ষ যুক্তির ভাষা না বুঝলে ইরান আবারও শক্তির ভাষা ব্যবহার করবে বলে তিনি জানান। চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন কাঠামোর প্রস্তাব থাকলেও মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে এতে আমেরিকার কোনো অর্থ সরাসরি দেওয়া হবে না।

ডিএস-এমএএইচ