সংগ্রাম ডেস্ক

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা চলছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে। গতকাল বুধবারের কারিগরি বৈঠকের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে মার্কিন দূত স্টিভ হুইটেকার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গতকাল কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে তারা নিজেরা এই আলোচনায় উপস্থিত নেই। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা মুখোমুখি সাক্ষাৎ করবেন না বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন বলছে, তেহরানের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা।

অপরদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, আলোচনা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর কেন্দ্রীভূত, যার মধ্যে জব্দকৃত তহবিল ছাড়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অ্যালেক্স ভ্যাটাঙ্কা আল জাজিরাকে বলেছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। এই সমঝোতা স্মারকটি কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় শোনাচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ নেই।

এদিকে এখনো ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ)। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং দ্রুত সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে ইরাক ও লেবাননের ওপর দিয়েও ফ্লাইট রুট ব্যবহার করা উচিত নয় বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উড্ডয়নের সময় বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ইএএসএ জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলের জন্য তাদের সংঘাতপূর্ণ এলাকা সংক্রান্ত সতর্কতা ১ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। কিন্তু এখন তা ৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে ‘অনেক ভালো’ আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোও খুব ভালো হয়েছে। গতকাল বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।মার্কিন বিমানঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা খুব ভালো চলছে। আলোচনায় ইরান অনেক দূর এগিয়েছে।

খামেনি হত্যার নির্দেশদাতাদের শাস্তি হবেই: ইরান

চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুইটির যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, যারা সুপ্রিম লিডার আলি খামেনিসহ অন্যান্য নেতাকে হত্যায় জড়িত তাদের শাস্তি দেয়া হবে। তিনি বলেন, হত্যাকা-ের প্রতিশোধ যে নিতে হবে তা এখনো এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে। এক বার্তায় জোলঘাদর বলেছেন, খামেনি এবং অন্যান্য শহীদদের রক্তের বদলা নেয়ার ফাইল এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। যারা হামলার নির্দেশ দিয়েছে এবং এসব অপরাধ করেছে তাদের শাস্তি হবেই। সমঝোতা স্মারকের আলোকে বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের যুধবিরতি চলছে। তবে সমঝোতার পরেও হরমুজ প্রণালিতে দেশ দুইটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা দেশ দুইটির মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।