রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল এবং সর্বস্তরের মানুষ এই মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করে কঠিন সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মাত্র ৮ বছরের একটি শিশুর সাথে পৈশাচিক ঘটনা ও তার নৃশংস হত্যায় কোন মানুষই স্বাভাবিক থাকতে পারেনি। তারা রাস্তায় নেমে আসে প্রতিবাদ জানাতে। ধিক্কার জানায় ধর্ষক ও খুনিকে আর দ্রুত বিচার দাবি করে। সকলের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে দ্রুত চার্জশিট প্রদান ও বিচারের ব্যবস্থা করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে সান্ত্বনা দেন ও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন (রবিবার) ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে সকালেই মামলার প্রধান আসামী সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। অপর আসামী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে উভয়পক্ষ তাদের চূড়ান্ত যুক্তি তুলে ধরে।

খবরে বলা হয়, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ওই বাসার ভাড়াটিয়া সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সময়ে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেয়া হয়। ১ জুন দু’আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরদিন শিশুটির মা-বাবাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তদন্ত চলাকালে সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে বিচারপর্বে এসে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, ‘ডলার’ নামের আরেক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পরে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি এবং তিনিও দুজনেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে আসামীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা নথিপত্রে ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির উল্লেখ নেই। ফলে এ বিষয়ে আদালতে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেন তিনি। সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে তিনি আদালতকে বলেন, আসামী সোহেল রানা শিশু রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন। পরে গ্রিল কেটে তিনি পালিয়ে যান। এসব কাজে আসামী স্বপ্না আক্তার সহযোগিতা করেছে। বিচারে ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করছি। আলোচিত এই মামলার রায় নিয়ে এখন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সবার দৃষ্টি আদালতের দিকে।

আমরা স্বল্প সময়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, আদালতের এ রায় দৃষ্টান্তমূলক হবে এবং তাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। অতীতে দেখা গেছে দেশে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় আদালতের রায় কার্যকরের নজির খুবই কম। বিচারের দীর্ঘ সূত্রতায় অনেক অপরাধী পার পেয়ে গেছে। কিন্তু আমরা মনে করি, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার রায় দিয়েই বসে না থেকে তা দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ইদানীং ধর্ষণজনিত অপরাধের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। একটি দৃষ্টান্তমূলক সাজা কার্যকর হলে এই অপরাধের ক্ষেত্রে লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হতে পারে বলে আমরা মনে করি।