• সচিবালয়ের ভেতরেও জলাবদ্ধতা
  • নিউ মার্কেট আপাতত বন্ধ ঘোষণা
  • বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে আজ থেকে

রাজধানীতে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি-সবখানেই জমে থাকা পানিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল রোববারও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা যায়।

জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়েছে রাস্তায়। কয়েকটি এলাকায় সিএনজি ও গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালকদের ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেক অফিসগামী মানুষকে পানিতে ভিজেই চলাচল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ভ্যানচালকরা ১০ টাকায় পানি পারাপার করছেন। রিকশা ও ভ্যানচালকরা বাড়তি ভাড়া হাঁকলেও পানি বেশি থাকায় অনেক রাস্তায় তারাও চলাচল করতে পারেননি। দোকানপাটে পানি ঢুকে মালামাল নষ্টের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে রেখেছেন।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি স্কুল-কলেজে নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেননি। কর্মজীবী মানুষেরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ফুটপাত ও ভ্রাম্যনান দোকানিরা পসরা নিয়ে সড়কেই বের হতে পারেনি। নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, আজিমপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মগবাজার, লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও গলিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে বহু এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে। অনেকের ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকলের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক অফিসগামী মানুষকে পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে দেখা যায়।

সচিবালয়ের ভেতরেও জলাবদ্ধতা

রাজধানীতে টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভেতরেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রধান প্রবেশপথ থেকে শুরু করে একাধিক ভবনের সামনের চত্বর, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গণমাধ্যম কেন্দ্রে যাওয়ার পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। গতকাল সকালের পর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তেই সচিবালয়ের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। প্রধান (১ নম্বর) প্রবেশ গেট দিয়ে ঢুকেই জমে থাকা পানির মুখোমুখি হতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের। সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের চারপাশ, ৭ নম্বর ভবনের সামনে ও পেছনের অংশ, ক্লিনিক ভবনের পূর্ব ও উত্তর পাশের চত্বর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর ভবনের মাঝখানের সড়ক সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় চলাচল ব্যাহত হয়। ৩ নম্বর ভবনের মাঝখানে থাকা বাগানও পানির নিচে চলে গেছে। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্ধারিত মিডিয়া সেন্টারে যাওয়ার পথেও পানি জমে থাকায় সেখানে পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

নিউ মার্কেট আপাতত বন্ধ ঘোষণা

টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে নিউমার্কেটের সব দোকানপাট। নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কেটের বিদ্যুৎ–সংযোগও সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সেক্রেটারি ফিরোজ উল ইসলাম। তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে নিউমার্কেট এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সকাল থেকে কোনো দোকান খোলা সম্ভব হয়নি। পুরো মার্কেটের ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং ক্রেতাদের উপস্থিতিও নেই বললেই চলে। ফিরোজ উল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) নিউমার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী সোমবার দোকানপাট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানিতে বাসার রিজার্ভ ট্যাংক ও পানির মোটরে ময়লা পানি ঢুকে পড়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবছর রাস্তা সংস্কারের কাজ হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা মিলছে না। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন। দোকান মালিকরা বলছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বারবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বিজিবি-৩ নম্বর গেট থেকে আজিমপুর পুরোনো কবরস্থান গেট, নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নিউমার্কেটের ভেতর দোকানের সামনেও থই থই করতে দেখা গেছে পানি। আজিমপুর কবরস্থানের ভেতরেও পানি ঢুকেছে। বিপরীত পাশের আইয়ুব আলী কলোনির গলিতে হাঁটুপানি। নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও পোস্ট অফিসসংলগ্ন সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। নিউমার্কেটের দোকান মালিক আলী হোসেন বলেন, প্রতিদিন দোকান খুললেই একটা খরচ থাকে। কিন্তু সকাল থেকে এক টাকাও বিক্রি করতে পারিনি। নিউমার্কেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা এখন নিয়তি। বিভিন্ন সময় সংস্কার হলেও তার সুফল পাই না। নিউমার্কেট-সংলগ্ন ৩৮/এ কলেজ এরিয়ার একটি বাড়ির কেয়ারটেকার জামাল উদ্দিন উদ্বিগ্ন কণ্ঠে মোবাইল ফোনে বাড়ির মালিককে এভাবেই জানাচ্ছিলেন বৃষ্টির দুর্ভোগের কথা। জামাল উদ্দিন বলেন, রিজার্ব ট্যাংকে ময়লা পানি ঢুকে পড়েছে। পানি না নামা পর্যন্ত কিছুই করার নেই। রিজার্ব ট্যাংক পরিষ্কার না করা পর্যন্ত এ দুর্ভোগ আর কমবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর সংস্কারের নামে রাস্তাঘাট খোঁড়া হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। নিয়মিত ট্যাক্স দিলেও নাগরিক সুবিধা পাই না।

মিরপুর-১০ থেকে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া পর্যন্ত সড়ক পানিতে ডুবে যায়। ধানমন্ডির ১২, ২৭, ৩২ ও ৮/এ নম্বর সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে। কারওয়ান বাজার মোড়, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান ও গ্রিন রোডের অলিগলিতে কোথাও কোথাও হাঁটুপানি। মিরপুর রোডের বিভিন্ন মার্কেটের সামনের সড়কেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৃষ্টির কারণে যানবাহন কম থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে ধীরগতিতে চলাচল করায় বিভিন্ন স্থানে যানজট তৈরি হয়। গণপরিবহন সংকটের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। মিরপুর-১২ থেকে পূরবী পর্যন্ত সুয়ারেজ লাইনের কাজ চলছে। ফুটপাতসহ প্রধান সড়কেও কাজ চলছে। যাত্রীদের তাই প্রধান সড়কের মাঝামাঝি এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ধানমন্ডি-২৭ যাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। বলেন, ৪০ টাকা দিয়ে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আসতে হয়েছে, বৃষ্টির অজুহাতে ভাড়া ২০ টাকা বেশি নিয়েছে। এখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। এছাড়া বাড্ডা, উত্তরাগামী বাসগুলো কম চলাচল করছে। গুলশানে যাবেন চাকরিজীবী মিনহাজ উদ্দিন। দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করেন তিনি। তবে বাস না পেয়ে রাইড শেয়ারিং গাড়িতে গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হন। আরেক যাত্রী বলেন, বৃষ্টি মানেই অফিসগামী যাত্রীদের ভোগান্তি। রিকশা, সিএনজি, বাস কিছুই পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলে তিনগুণের বেশি টাকা খরচ করতে হয়।

মিরপুর এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে মনে হয়েছে রাস্তা নয়, যেন খাল পার হচ্ছেন। কোথায় ম্যানহোল আছে, কোথায় গর্ত আছে কিছুই বোঝার উপায় ছিল না। কাপড়, জুতা সব ভিজে গেছে। প্রতিবার বর্ষায় একই কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। এত উন্নয়নের কথা শোনা যায়, কিন্তু বৃষ্টি হলেই সবকিছু পানির নিচে চলে যায় ঢাকায়। বিজয় সরণি ও তেজগাঁও হয়ে হাতিরঝিলের দিকে আসা সিএনজিচালক জাহিদুর রহমান বলেন, আসার পথে একাধিক সড়ক ও অলিগলি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখেছি। জমে থাকা পানিতে দু-একটি সিএনজির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালকদের ঠেলে নিয়ে যেতেও দেখেছি। বলতে গেলে পুরো ঢাকা শহরের সব সড়কেই জলাবদ্ধতা ছিল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, টানা ভারী বর্ষণে সাময়িক জলজট তৈরি হলেও আমাদের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর থেকে মাঠে রয়েছে। জলাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নেমেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ইতোমধ্যে ভারী বৃষ্টির ফলে গুলশান, বনানী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায় সৃষ্ট জলজট পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

গত ১৬ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং ওয়াসা থেকে দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে নালা ও খাল হস্তান্তর করেও কাটেনি ঢাকার জলাবদ্ধতা সংকট। বর্ষা শুরুর আগেই সামান্য বৃষ্টিতে নাকাল হচ্ছে নগরবাসী। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেও, একদিকে অকেজো পাম্প স্টেশন ও স্লুইসগেট, অন্যদিকে অবৈধ দখল ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরাট হওয়া খালের কারণে এবারের আষাঢ়-শ্রাবণেও রাজধানীতে তীব্র জলজটের আশঙ্কা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা। নগর পরিকল্পনাবিদরা জানিয়েছেন, মূলত পাঁচ স্তরের সংকট একসঙ্গে জেঁকে বসেছে ঢাকার বুকে। প্রথমত, সড়কের ক্যাচপিটের ছিদ্রগুলো আবর্জনায় বন্ধ; দ্বিতীয়ত, ড্রেনগুলো পলি ও কাদায় ভরা; তৃতীয়ত, অবৈধ দখলে হারিয়ে গেছে প্রধান খালগুলো; চতুর্থত, পাম্পিং স্টেশনগুলো অকেজো; পঞ্চমত, চারপাশের নদনদীগুলো ভরাট হয়ে হারিয়েছে পানি ধারণের সক্ষমতা।

ফলে বৃষ্টির পানি ক্যাচপিট থেকে ড্রেনে, ড্রেন থেকে খালে এবং খাল হয়ে নদীতে যাওয়ার প্রতিটি ধাপেই অচল হয়ে পড়ে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়, দফায় দফায় সভা আর প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেলেও সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। সমস্যার গভীরে হাত না দিয়ে বারবার উপরিভাগে প্রলেপ দেওয়ার কারণেই প্রতি বর্ষায় ঢাকা ফিরে সেই চেনা ও চরম ভোগান্তির রূপে।

সোমবার থেকে কিছুটা কমতে পারে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আজ সোমবার থেকে কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রোববার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি. /২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মি.মি. ২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। রোববার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ (৭৬ থেকে শতভাগ অঞ্চল) জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ। সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। অর্থাৎ সোমবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে যেতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশেই বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীতে। অন্যদিকে, রোববার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে- রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রূপগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে “নির্মাঞ্চলের অর্ধ লক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি

নাজমুল হুদা, রূপগঞ্জ থেকে জানান : গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় নির্মাঞ্চলের প্রায় লক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতায় বন্যায় রূপ নিয়েছে।এতে করে শিশু থেকে শুরু করে অর্ধশতাধীক নারী-পুরুষ ঠান্ডা জনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। জলাবদ্ধয় পানিবন্দী হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও মাদরাসার যেতে পারছেনা । এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। অনেক স্থানে পানিবদ্ধতায় পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় মাছ চাষীরা। পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতার। এতে মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। অভিযোগ রয়েছে নিষ্কাশনের খালগুলো বেদখলে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, উপজেলার নির্মাঞ্চল এলাকা গুলোতে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার কাঞ্চন হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাব, আইতলা, ডুলুরদিয়া,তারাবো, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাগমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী ও ভূলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়ির উঠোনেই পানি হাঁটু পরিমাণ। অনেকের বসত ঘরে ২-৩ ফুট পানি। রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। কোনও কোনও স্থানে নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এ ছাড়া শিল্প-কারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির দূষণে রোগাক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।