হাওর বাওর নদনদী বিধৌত প্রাকৃতিক লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চল। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা কিশোরগঞ্জ। এই জেলাটি ১৩ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৯৮৫ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে এই জেলাটি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর জেলা হিসেবে নথিভুক্ত।ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার এই জেলার চারটি উপজেলাকে হাওর উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এদিকে নিকলীকে সরকার পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা গুলো হল নিকলী,ইটনা, মিটামইন,ও অষ্টগ্রাম ।

এই উপজেলা গুলোর মধ্যে অন্যতম হাওর উপজেলা নিকলী।নিকলী উপজেলা কে হাওড় অঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়। কারণ এই উপজেলার অর্ধেকাংশ উজান এলাকায় এবং অর্ধেকাংশ নিম্নাঅঞ্চল এলাকায় পড়েছে । জেলা শহরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে এই নিকলী উপজেলার সড়ক পথে সারা বছর যোগাযোগ রয়েছে। বাকি তিনটি হাওর উপজেলার সাথে সারা বছর সড়ক পথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায় না। বর্ষাকালে ওই তিনটি উপজেলার সাথে একমাত্র যানবাহন নৌকা ছাড়া যোগাযোগের আর বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই।

তবে সারা বছর যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য তিনটি উপজেলা অষ্টগ্রাম, মিটামইন,এবং ইটনা নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটারের একটি অল ওয়েদার এবং ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। অল ওয়েদার সড়কের সাথে জেলা সদরের কিংবা দেশের অন্যান্য প্রান্তের সংযোগ তৈরি হয়নি। এই অল ওয়েদার সড়কের মাধ্যমে তিনটি উপজেলার জনসাধারণ সারা বছর যোগাযোগ রক্ষা করে চলে।

অন্যান্য বছর এই হাওড় অঞ্চলে জুন মাসে পুরোদমে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও এবছর পানির দেখা মিলছে কম। এখনো কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলগুলোতে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি।

গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি নিকলীর হাওরে আসার মধ্য দিয়ে বর্ষার নতুন পানি আসতে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে নতুন পানিতে হাওর অঞ্চলের ডুবো সড়ক গুলো ডুবে যাওয়ায় হাওড় অঞ্চলে স্থাপিত সরকারি ছয়টি ফেরিঘাট গত ১৮ই জুন থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যাত্রী সাধারণ এবংপর্যটকদেরকে নৌকা অথবা ট্রলারে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পুরোদমে বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়াই শুধুমাত্র স্থানীয় পর্যটকদের আনাগোনা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বর্ষার পানি না আসায় পুরোদমে পর্যটন মৌসুম শুরু হতে আরো ১৫-২০ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শেষে হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা এখন বিশ্রামে আছেন।

নিকলীসহ হাওর অঞ্চল বর্তমানে দূরদূরান্তের পর্যটক শূন্য। এ সংবাদদাতা সরে জমিনে গিয়ে দেখেন স্থানীয় পর্যটক ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকার পর্যটকদের চোখে পড়ছে না।

এই প্রতিবেদককে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এবং মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান এবছর পরিপূর্ণ বর্ষা না হলে আমাদের বর্ষাকালে ব্যবসা-বাণিজ্য খুবই মন্দা যাবে। নৌকা ট্রলার ইতিমধ্যেই মেরামত করে প্রস্তুত করে রেখেছি কিন্তু পানির অভাবে এগুলো পুরো দমে চালাতে পারছি না। নৌকাগুলো নদীতে বেঁধে রেখেছি। এই সময় সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসতো কিন্তু এখন পর্যন্ত বর্ষার পানি না আসায় বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি পর্যটকরা আসছেন না। ফলে আমরা চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি। তারপরেও আমরা আশাবাদী বৃষ্টির মৌসুম যেহেতু শুরু হয়েছে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বর্ষাকাল শুরু হবে।

নিকলীর হাওর এলাকা

এই এলাকায় বর্ষাকাল শুরু হলে হাওর এলাকায় যেদিকেই চোখ যায় দিগন্ত বিস্তৃত জল রাশি। থৈ থৈ পানি আর কল কল ঢেউ এ যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই যেন আলাদা। বর্ষাকাল শেষ হলে শীতে ভিন্ন এক আমেজ। সবুজ মাঠ সোনালী ফসলের প্রকৃতি দেখতে দেখতে মন জুড়িয়ে যায়। এসব নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে যে কেউ আসতে পারেন শীতকালে নিকলী উপজেলার হাওর অঞ্চলগুলোতে।

বর্ষাকালে হাওর অঞ্চলের গ্রামগুলো পানিতে দ্বীপের ন্যায় ভেসে থাকতে দেখা যায়। ছোট ছোট গ্রাম, স্বচ্ছ জলের খেলা, মাছ ধরতে জেলেদের ব্যস্ততা, ছোট ছোট নৌকা ও খাওয়ার জন্যে হাওরের তরতাজা নানা মাছ পাওয়া যায় এই হাওর অঞ্চলে।

নিকলী হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

হাওরের পানির অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে চাইলে পর্যটকদের পুরো বর্ষাকাল শুরু হলে হাওরে আসতে হবে। নিকলীসহ কিশোরগঞ্জের পুরো হাওড় অঞ্চল ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে বর্ষার পানি কমতে শুরু করে, শীতের আগে আগে পানি একেবারে শুকিয়ে যায়। তখন শুধু মাত্র হাওড় অঞ্চলে প্রবাহিত নদী গুলোতে পানি থাকে। বাকি মাঠ ঘাট রবিশস্য, শীতকালীন সবজি এবং সোনালী ধান চাষের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে।

কিভাবে নিকলী আসবেন

ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নরসিংদী, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশপাশ থেকে একদিনে ঘুরে যেতে পারবেন নিকলী হাওর এলাকা । ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে এই দুইভাবেই নিকলী হাওরে আসতে পারবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে নিকলী

ঢাকা হতে ট্রেনে গিয়ে একদিনে ঘুরে দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনে আসতে হবে। এগারো সিন্ধুর প্রভাতী বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বিমানবন্দর, নরসিংদী ও ভৈরব ষ্টেশন হয়ে কিশোরগঞ্জ আসে। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

যদি ট্রেনে আসেন তাহলে সবচেয়ে ভাল হবে কিশোরগঞ্জ শহরে পোঁছার আগের স্টেশন মানিকখালী অথবা গচিহাটা ষ্টেশনে নামতে হবে । ঢাকা থেকে ট্রেনে রওনা দিয়ে আপনি সকাল সাড়ে দশটার দিকে মানিকখালী ষ্টেশনে চলে আসতে পারবেন। ষ্টেশন থেকে ইজিবাইক, অটো রিক্সা অথবা সিএনজি দিয়ে সহজেই চলে যেতে পারবেন ১৪ কিলোমিটার দূরের নিকলী উপজেলা সদরে। ইজিবাইকে জনপ্রতি ১০০ টাকা রিজার্ভ নিলে ৩০০টাকা, সিএনজি জনপ্রতি ৬০ টাকা,রিজার্ভ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, অটো রিক্সা জনপ্রতি চল্লিশ টাকা,রিজার্ভ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় নিকলী যেতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ মিনিট হতে এক ঘন্টা। তবে ঐ দিনই ট্রেনে ফিরতে চাইলে বিকাল চারটার মধ্যে মানিকখালী অথবা গচিহাটা রেল স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এ ভ্রমণ করে ঢাকা যেতে পারবেন। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস মঙ্গলবার দিন বন্ধ থাকে।

ঢাকা হতে বাসযোগে নিকলী যাওয়া

ঢাকা থেকে বাসে নিকলী যেতে চাইলে ঢাকার গোলাপবাগ, গুলিস্তান থেকে যাতায়াত ও অনন্যা সুপার বাস অথবা মহাখালী থেকে জলসিড়ি অথবা উজানভাটি বাসে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে।

প্রতিদিন ভোর ৫:৩০ থেকে ২০ মিনিট পর পর বাস ছেড়ে যায়। বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা। দিনে ঘুরে রাতের মধ্যে ফিরতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সকাল ৬টার আগেই ঢাকা হতে বাসে রওনা দিতে হবে। যে বাসেই আসেন কিশোরগঞ্জের আগেই কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ড নামতে হবে।

ঢাকা থেকে কটিয়াদি আসতে অতিরিক্ত জ্যামের কারণে সময় নষ্ট না হলে সময় লাগবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা। সেখান থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের নিকলী যেতে সিএনজি সবচেয়ে ভালো উপায়। কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ডেই সিএনজি সব সময় পাওয়া যায় । রিজার্ভ করে গেলে ভাড়া লাগবে ৫০০টাকা। লোকাল সিএনজিতে যেতে ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৮০ টাকা। কটিয়াদি হতে সিএনএজিতে নিকলী যেতে সময় লাগবে প্রায় ৫০ মিনিট।

যদি কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে নিকলী যেতে চান তবে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন নিকলীগামী সিএনজি ষ্টেশনে চলে যাবেন। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলীর দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। সিএনজি ষ্টেশন থেকে লোকাল বা রিজার্ভ নিয়ে নিকলী যেতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। লোকাল যেতে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা আর সিএনজি রিজার্ভ নিতে ৪০০-৪৫০ টাকা ভাড়া লাগে। আবার একরামপুর বাস স্ট্যান্ড থেকেও সিএনজি যোগে ভায়া জয়কা, খয়রত হয়ে নিকলী যেতে পারবেন দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ শহর থেকে শতশত অটো রিক্সা নিকলী চলাচল করে।

এছাড়া ভৈরব বাজার থেকেও লোকাল কিংবা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে নিকলী যাওয়া যায়। লোকালে যেতে জনপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা আর রিজার্ভ নিলে ৭০০ টাকা। ভৈরব থেকে সিএনজিতে নিকলী যেতে সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মত।

দিনে দিনে নিকলী হাওর এলাকা ঘুরে বাসে যেতে চাইলে অবশ্যই পর্যটকদের কে সন্ধ্যা সাতটার আগেই কটিয়াদী বাস স্ট্যান্ড, পুলের ঘাট বাস স্ট্যান্ড,কিশোরগঞ্জ শহর বাস টার্মিনাল এ গিয়ে নিজ নিজ দায়িত্বে পৌঁছতে হবে।

আবার পর্যটকরা ইচ্ছে করলে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, যাত্রীবাহী বাস নিয়ে নিকলী উপজেলা সদরে আসতে পারবেন। বেসরকারিভাবে গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা আছে।

নিকলীর কোথায় খাওয়া দাওয়া

নিকলী যেখানে নামবেন সেখানেই মোটামুটি মানের কয়েকটি খাবার হোটেল আছে উপজেলা পরিষদ মোড়ে। তার মধ্যে,আল্লাহর দান হোটেল রিজিক, হোটেল সেতু, ক্যাফে ঢেউ,নিকলী নতুন বাজারে হোটেল সাড়ে বাইশ উল্লেখযোগ্য। হাওরের তাজা মাছের নানা পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খেতে পারবেন।

নৌকায় কিভাবে ঘুরবেন

নিকলী বেড়ীবাদের মাথা থেকে অথবা নিকলী নতুন বাজার ফেরিঘাট থেকে দরদাম করে ঘন্টা প্রতি নৌকা ঠিক করে নিবেন হাওর ঘুরে দেখার জন্যে। ছোট নৌকা ভাড়া করতে ঘন্টা প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং একটু বড় নৌকা ভাড়া করতে ঘন্টা প্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হবে। আবার একসাথে আপনারা কয়েকজন থাকলে আপনার পছন্দমত নৌকা রিসার্ভ হিসেবে ঠিক করে নিতে পারবেন। এক নৌকায় অনায়াসে ১০-৩০ জন পর্যন্ত উঠতে পারবেন। তবে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।

সারাদিনের জন্য ট্রলার রিজার্ভ করে নিলে নিকলীর ছাতিরচর ইউনিয়নের করস বাগান, তারপর মিঠামইন উপজেলা সদর যেতে পারবেন। সেখান থেকে অটো রিক্সাযোগে অষ্টগ্রাম উপজেলা এবং ইটনা উপজেলা ঘুরে আসতে পারবেন এই সময়ের মধ্যে। তবে বৈরী আবহাওয়া এবং উত্তাল ঢেউ থাকলে থাকলে অবশ্যই নৌকা পাঠ ট্রলার ভ্রমনে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশাল জলরাশি দেখতে দেখতে দু’চোখ জুড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি শীতল জলে গা ঢুবিয়ে শরীর শান্ত করার কাজটা এখানেই সেরে ফেলতে পারেন। তবে ভরা বর্ষায় পানি অনেক বেশি থাকে। তাই গোসল করতে চাইলে সাথে করে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ছাতিরচরের করস বাগানে গেলে দেখবেন পানির মধ্যে করস গাছগুলো ডুবে আছে। উপরের অংশ পানির উপরে। করস গাছ এমন একটি গাছ বর্ষাকালে পানিতে বেঁচে থাকতে পারে এবং শুকনা মৌসুমে ও বেঁচে থাকতে পারে। উন্মুক্ত হাওরে শেষ বিকেলের সূর্য্য দেখতে দেখতে পূনরায় নিকলী বেড়ি বাঁধে এসে বাড়ি ফেরার পথ ধরতে পারবেন।

এদিকে নিকলী থেকেই নানা ধরনের ট্রলার নৌকা রিজার্ভ কিংবা লোকাল ভাড়াতে মিঠামইন গিয়ে থাকে। সিজন ও ছুটির দিন অনুযায়ী ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে। তবে ছুটির দিনে ভাড়া বেশি। নৌকায় করে মোটরবাইক নেবার ও সুযোগ আছে। মিঠামইন গিয়ে সেখানে রিক্সা, বাইক দিয়ে অল ওয়েদার রোড ধরে অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলায় যাওয়া যায়।

নৌকায় নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম,ইটনা ভ্রমণ শুধুমাত্র বর্ষাকালেই করা সম্ভব। শুকনো মৌসুমেে নৌকা দিয়ে ভ্রমণ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন।

নিকলীতে রাত্রি যাপন ব্যবস্থা

নিকলীতে বর্তমানে কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল তৈরি হয়েছে পর্যটকদের কথা ভেবে। নিকলী বেড়িবাঁধের কাছেই আলম রিসোর্ট, চেয়ারম্যান গেস্ট হাউজ ছাড়াও আরও কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল আছে। তবে পর্যটকদের আগমন অনুযায়ী হোটেলগুলো পর্যাপ্ত নয়।

এছাড়া সুযোগ থাকলে উপজেলা ডাক বাংলো তে থাকতে পারবেন। যদি নৌকায় বা ক্যাম্পিং করে রাত পার করতে চান তবে নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় কারও সাহায্য নিতে পারেন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা,পর্যটন পুলিশের সহযোগিতায় নিতে পারবেন। তবে নিকলীতে পর্যাপ্ত হোটেল না থাকায় বেশিরভাগ পর্যটকরা কটিয়াদি কিংবা কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হোটেল গুলোতে রাত্রি যাপন করেন।

নিকলীর বেড়ি বাঁধ এলাকা কতটুকু?

নিকলী সদর ইউনিয়নের কুশা গ্রামের ব্রিজ হতে উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে বেড়িবাঁধ শুরু হয়ে মোহরকোনা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। তাই হেটে, হেটে অথবা অটো রিক্সা দিয়ে দেখা যাবে তার সৌন্দর্য।

নিকলী ছাড়াও জেলার অন্যান্য হাওড় অঞ্চল

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা ছাড়াও, অষ্টগ্রাম উপজেলা, মিঠামইন উপজেলা, ইটনা উপজেলার প্রায় পুরোটাই হাওর অঞ্চল।

বেড়ীবাধের সড়ক বাতি অচল

কুরশা রোদা নদী ব্রিজ হতে মহরকোণা পর্যন্ত বেড়ী বাধে স্থাপিত সোলার লাইট (সড়ক বাতি) বেশিরভাগই নষ্ট। স্ট্রিট সোর ল্যাম সোলার প্যানেল সহ নানা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট ও ছিচকে চুরের উপদ্রবে অধিকাংশ লাইট চুরি হয়ে গেছে। রাতের বেলায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক বাতি গুলো মেরামত করা প্রয়োজন।

পর্যটকদের আইনগত সেবা

বর্ষা মৌসুমে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে নিকলী উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, এবং পর্যটন পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। ছিনতাই ডাকাতি, অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে কাজ করছে। গত ২০মে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. মিজানুর রহমান নিকলী পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পর্যটকদের ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন

সাঁতার না জানলে পানিতে না নামাই উত্তম। হাওরে বৈরী আবহাওয়া, উত্তাল ঢেউ উঠলে মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা নৌকা যুগে ভ্রমণ না করা উচিত। যেকোনো সময় নৌকা অথবা ট্রলার উল্টে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারি বন্ধের দিনগুলোতে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় নিকলীতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়।

বন্ধের দিনগুলোতে মাইক্রোবাস প্রাইভেট কার বেশি পরিমাণে আসার কারণে নিকলী করগাও সড়কে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার রাস্তা প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। এই রোডটিকে বলা চলে নিকলীতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা। রাস্তাটির প্রস্থ মাত্র ১০ ফিট। ফলে অনেক সময় পর্যটকদের কে পায়ে হেঁটে যানজট এলাকা পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। জানা গেছে করগাও ও নিকলী সড়ক সরু থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি পর্যটক যাতায়াতকারী রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা হলে স্থানীয় জনগণ এবং পর্যটকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।

সম্প্রতি হাওর এলাকার প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌকা বা ট্রলার চলাচল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল করেছেন। মিঠামইন উপজেলা হতে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ধ্যা ছয়টার পর কোন প্রকার নৌকা বা ট্রলার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলাচল করবে না। ট্রলার চলাচল শিথিল করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন হাওড় অঞ্চলের অনেক মানুষ। অনেকে বলছেন নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নাজি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য হাওর অঞ্চলে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করা দরকার।