মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার উত্তর সাগরনাল নালাপার জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের পর পরই মুসল্লিদের উপর "আইয়্য়ামে জাহেলিয়াতের" বর্বরচিত হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন মুসল্লি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ওই মসজিদের ইমাম তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে ঔ মসজিদে ইমামতি করে অসছেন। তিনি স্থানীয় হওয়ার সুবাদ এখানে নিজ আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। তিনিই ঔ হামলার মাস্টার মাইন্ডের দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ঔ মসজিদের পঞ্চায়েত কমিটি মেয়াদ শেষ হলেও দীর্ঘদিন থেকে জোরপূর্বক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে এলাকার লোকজন ১৬ পনির নিকট অভিযোগ প্রদান করলে শুক্রবার (১২ জুন) ওই বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে আসেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সগরনাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুন নূর। তার উপস্থিতিতে বিচার শুরুর এক পর্যায়ে কথা কাটা ও হট্রগুল শুরু হয়। পরে তা উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারিতে রুপ নেয়।
তখন ঔ এলাকার কাশেম মিয়া (৪০) তার পিতা আব্দুল জলিল(৬৮) সাত্তার মিয়া (৬৫),গৌছ উদ্দিনসহ (৪০) আরো অজ্ঞাত ১০/১২ মিলে উত্তর সাগরলান নালাপারের মৃত বরকত উল্লার ছেলে আসুক মিয়াকে (৬৫) একা পেয়ে তার উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র -সস্র ও দা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
মসজিদের পাশে তার বাড়ীতে অবস্থানরতরা হাল্লা চিৎকার শুনে তাড়াহুড়া করে তিনির পুত্রবধূ প্রবাসী উজ্জল মিয়া স্ত্রী পারভিন বেগম (২৮)এগিয়ে এসে দেখেন তার শশুর আসুক মিয়া মাটিতে পড়ে আছেন। তখন তিনি তাকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করলে তারা তার উপরও হামলা চালায়। এলাকার উপস্থিত লোকজন এটাকে "আইয়্য়ামে জাহেলিয়াতের" চেয়েও বর্বরচিত হামলা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে উল্লেখ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ঔ গুরুতর আহতদেরকে তাড়াতাড়ি করে সিলেট ওসমানী হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রেফার করেন।
এ ব্যাপারে জুড়ী জুড়ী থানায় খবর দিলে এসআাই আকবর আলীর নেতৃত্বে আরো ৪ জন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে এসে তা সরেজমিনে পরিদর্শন ও তথ্য রেকর্ড করেন। পরে গুরুতর আহত আসুক মিয়ার স্ত্রী শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে জুড়ী থানায় অভিযোগ দায়োর করেন। এ ব্যাপারে থানার ওসি রফিক ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় অবস্থা গ্রহণ করা হবে।