বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পায়নি ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়ার পর দারুণ লড়াই করে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের।

তবে এই ড্রয়ে হতাশ হওয়ার কারণ দেখছেন না ব্রাজিল সমর্থকদের একাংশ। কারণ ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের শুরুতে হোঁচট খেলেও শেষ হাসি হাসার অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্রাজিলের।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলও তাদের অভিযান শুরু করেছিল জয় ছাড়া। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে দলটি। এরপর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে খেলতে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয় তারা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। নতুন পরিবেশ, বাড়তি চাপ এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক সময় বড় দলগুলোর স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব ফেলে। তাই উদ্বোধনী ম্যাচে পয়েন্ট হারানো মানেই শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে ব্রাজিলের সামনে। সমর্থকদের আশা, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে আসল শক্তির প্রদর্শন করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ব্রাজিলের বর্তমান দলেও রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান ফুটবলারের সমন্বয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, মারকুইনিওসদের পাশাপাশি ইনজুরি কাটিয়ে নেইমার ফিরলে দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুসও স্বীকার করেছেন, ব্রাজিল তাদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপ জয়ের পথে অনেক সময় শুরুটা নিখুঁত না হলেও শেষটা হতে পারে সোনালি। ১৯৯৪ সালের সেই স্মৃতিই এখন নতুন করে আশা জোগাচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের। তাদের বিশ্বাস, প্রথম ম্যাচের ড্র হয়তো শেষ পর্যন্ত শিরোপা অভিযানে বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।